নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক মো. আবু হানিফের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায় না পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত প্রায় ৮টার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর পৌর স্টেডিয়াম-সংলগ্ন মন্দির এলাকার কামাল হাজীর পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত আবু হানিফ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ইছাপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব মুন্সীর ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনসে সশস্ত্র সহকারী উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৫ জুলাই থেকে তিনি পাঁচ দিনের অসুস্থতাজনিত ছুটিতে ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু হানিফ তার স্ত্রীকে নিয়ে ইসদাইরের ওই বাসায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে পারিবারিক বিরোধের পর তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর বাসায় একাই ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানালার ফাঁক দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার দরজা খোলা পেয়েছে। দরজা খোলা থাকার বিষয়টিসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এর সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটনে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের মোবাইল ফোনের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”