সরকারি চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণের হার ক্রমাগত কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির মতে, এই পরিস্থিতি কেবল নিয়োগের পরিসংখ্যানগত হ্রাস নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এক গুরুতর নীতিগত চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় নারীদের জন্য বিশেষ ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কোটা পুনর্বহাল করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রশাসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

সংগঠনটি মনে করে, সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়া নারীর ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ এখনো তুলনামূলক কম। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্বের অসম বণ্টন, নিরাপত্তাহীনতা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি সীমিত হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ পান না।

এই প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নারীদের জন্য কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের ইতিবাচক ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং জাতিসংঘের সিডও সনদেও এর উল্লেখ রয়েছে। তারা মনে করে, নারীদের জন্য কোটা বহাল রাখা কেবল অধিকার রক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত।

সরকারি চাকরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীরা যতক্ষণ পর্যন্ত সমান ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব অর্জন না করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কোটাসহ বিশেষ ইতিবাচক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।