সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের মামলার শুনানির দিন আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার চার যুবককে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার এই আদেশ প্রদান করেন।
রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলেন মোস্তাকিম হোসেন (৫১), মো. নূর আলম (৩৫), মো. রুহুল আমিন (২৯) ও মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮)।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, "সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলককে গতকাল সোমবার আদালতে দেখতে এসে গ্রেপ্তার হন কতিপয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আদালত চত্বরে কোনো বিশৃঙ্খলা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাঁদের আটকের বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। এর মাধ্যমে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন হয়েছে।"
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচালক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল ২৬ জুলাই। ওই শুনানির জন্য জুনাইদ আহ্মেদ পলকসহ গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যানটিন গেট এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কিছু সদস্য ও সমর্থক জড়ো হন। জুনায়েদ আহ্মেদ পলককে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে চারজনকে আটক করা হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের কোতোয়ালি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৬ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিনুর রহমান।
২৭ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক ইবনে খালিদ হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, "মামলাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ এবং অর্থ জোগানদাতা ও চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করতে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে একান্ত প্রয়োজন।"