সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এলাকা থেকে প্রায় ৯ ফুট লম্বা একটি বিষধর কিং কোবরা বা রাজগোখরা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সাপটিকে পরবর্তীতে নিরাপদ উপায়ে বনের গভীরে অবমুক্ত করা হয়। জানা গেছে, সাপটি কোনো পর্যটক বা বনকর্মীকে দংশন করেনি।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে করমজল জামে মসজিদে ফজরের নামাজ শেষ করে নিজ কক্ষে ফেরার পথে হরিণের খাঁচার পাশের সড়কে তিনি এবং মসজিদের ইমাম সাপটিকে দেখতে পান। এরপর সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে সুন্দরবনের গভীরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিং কোবরা পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ ও বিষধর সাপ। এর বিষদাঁত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দংশনক্ষমতা এত বেশি যে হাতির পুরু চামড়াও ভেদ করতে পারে; এ কারণে হাতিও এই সাপকে এড়িয়ে চলে। এছাড়া পৃথিবীর একমাত্র সাপ হিসেবে কিং কোবরা নিজেই বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে। সাধারণত একটি স্ত্রী কিং কোবরা প্রায় ২৫টি ডিম দেয় এবং অধিকাংশ ডিম থেকেই বাচ্চা ফুটে বের হয়।
বন কর্মকর্তাদের মতে, করমজল এলাকায় সাধারণত ৯ ফুট পর্যন্ত পুরুষ এবং ১৩ ফুট পর্যন্ত স্ত্রী কিং কোবরার দেখা মেলে।
হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, "বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল ও সুন্দরবনের করমজল এলাকায় কিং কোবরার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। সাপটি অত্যন্ত বিষধর হওয়ায় কামড়ানোর পর চিকিৎসার জন্য খুব অল্প সময় পাওয়া যায়।" এই ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি সুন্দরবনে চলাচলকারী পর্যটক, বনকর্মী ও বনজীবীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।