জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে গিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই সজীব ও সুজন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই দাম্মামে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তারা। শেষ পর্যন্ত কফিনে করে দেশে ফিরেছেন দুই ভাই।

নিহতরা চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফা বাড়ির আব্দুল মালেকের সন্তান। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে কাজের সহযোগিতার জন্য ছোট ভাই সুজনকে তিনি সৌদি আরবে নিয়ে যান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই রাতে বাগান থেকে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই ভাইয়ের।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি সংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পরিবারটি। নিহত সজীবের স্ত্রী এবং দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী এবং সবার প্রিয়। তাদের অকাল মৃত্যুতে পুরো গনিপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে তাদের শেষ বিদায় জানান আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।