ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দলের’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নীল দলের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, ফ্যাসিবাদকে মদদ দিয়েছেন এবং গত ১৭ বছর ধরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও ভিন্নমতের শিক্ষকদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে সাদা দলের প্রতিনিধিরা এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে নীল দলের শিক্ষকেরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী মহলের ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্দোলন পরিহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়া সাদা দলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানানো হয়।

সাদা দলের দাবি, ওই বছরের ৩ আগস্ট নীল দলের আয়োজনে শোভাযাত্রা ও মানববন্ধন থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরোক্ষভাবে ‘নাশকতার জন্য দায়ী’ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়তে বাধ্য করা হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে ১৫ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তৎকালীন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে দাবি করা হয়।

সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন আবুল কালাম সরকার বলেন, “জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হতে চললেও আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো বিচার হয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান উপাচার্য নিজেও ওই সময় একজন ভুক্তভোগী।” তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।