শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগের টিকিট এবং জরুরি বিভাগে ভর্তি ফি হিসেবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সংশোধিত পরিপত্র অনুযায়ী, ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগের চিকিৎসা ফি তিন টাকা এবং জরুরি বিভাগে ভর্তি ফি পাঁচ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন টিকিট বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা।

হাসপাতালের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬০ হাজার ৭৪৬ জন রোগী। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দুই টাকা বেশি নেওয়ায় অতিরিক্ত আদায় হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ টাকা। একই সময়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি টিকিট সংগ্রহ করেছেন ৪ হাজার ৪০৪ জন রোগী। নির্ধারিত পাঁচ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা নেওয়ায় এই খাতে অতিরিক্ত আদায় হয়েছে ২২ হাজার ২০ টাকা। সব মিলিয়ে ছয় মাসে মোট অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫১২ টাকা।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ রোকনুজ্জামান জানান, জানুয়ারিতে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮ হাজার ৭৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮ হাজার ৭৬০ জন, মার্চে ৯ হাজার ১৪ জন, এপ্রিলে ১১ হাজার ৭৩৫ জন, মে মাসে ৯ হাজার ৩৬০ জন এবং জুন মাসে ১৩ হাজার ১১৯ জন। একই সময়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি টিকিট সংগ্রহ করেন যথাক্রমে ৬৬৬, ৬৬৬, ৭৪৮, ৮২৯, ৬২০ ও ৮৭৫ জন রোগী।

টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা কার্ডিওগ্রাফার মো. বাবুল এই অতিরিক্ত অর্থ নিজের কাছে রেখে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বাবুলই টিকিট বিক্রি করছেন। সেখানে আসা একাধিক রোগী জানান, তিন টাকার টিকিটের জন্য পাঁচ টাকা এবং ভর্তি ফি বাবদ পাঁচ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

ভর্তি রোগী রহমান মিয়া বলেন, "আমরা তো জানতাম বহির্বিভাগে ৫ টাকা আর ভর্তি ১০ টাকা। এখন শুনছি আসলে ৩ টাকা ও ৫ টাকা। তাহলে অতিরিক্ত টাকাগুলো কোথায় যায়?"

আরেক রোগী নাজমুল বলেন, "আমি নিজেও ১০ টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছি। এত রোগীর কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেই টাকার হিসাব কোথায়? হাসপাতালের টয়লেটের অবস্থাও খুব খারাপ।"

রোগীর স্বজন মেহেদী হাসান বলেন, "হাসপাতালের পরিবেশ খুবই নাজুক। বিশেষ করে বাথরুমের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।"

এই অভিযোগের বিষয়ে কার্ডিওগ্রাফার মো. বাবুল জানান, দুই টাকার খুচরা না থাকায় ৫ টাকা নেওয়া হয় এবং পরে অতিরিক্ত টাকার সঙ্গে টিকিটের হিসাব সমন্বয় করা হয়। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি অর্থ আদায়ের কোনো বিধান নেই—এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মোহাম্মদ মফিদুল ইসলাম জানান, বহির্বিভাগের টিকিটের মূল্য ৩ টাকা এবং জরুরি বিভাগে ভর্তি ফি ৫ টাকা। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন, "সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আগে জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"