সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগসাজশকে স্পষ্ট করছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ফ্যাসিবাদ বিষয়ে সরকারের প্রকৃত অবস্থান পরিষ্কার হবে।

আজ সোমবার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত ‘জুলাই: রক্তঋণের উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, "রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় এবং এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সুতরাং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে।"

রাষ্ট্রপতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এসব বক্তব্য যৌক্তিক নয়। বরং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের একধরনের যোগসাজশের বিষয়টি প্রতীয়মান হচ্ছে। তারা সেই যোগসাজশ করে নির্বাচনে এসেছে, ক্ষমতায় এসেছে বলে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।"

সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে বিরাজমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কুইক রেন্টালের মাধ্যমে যেসব চুক্তি করা হয়েছে, তা বাতিল না করলে বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে। এর ফলে কলকারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং গ্যাসের সংকট আরও ঘনীভূত হবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও খনন না করলে এই সংকট দূর হবে না বলে তিনি মনে করেন। ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যারা সে সময় ছাত্ররাজনীতি করতাম, আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। আমরা দেখতাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বারবার সফল হচ্ছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ভিসির পদত্যাগ করাতে পারিনি। জাহাঙ্গীরনগর পারত।”

গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান্তরালে আন্দোলন করেছে। এখনকার একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না।" এটি গোটা দেশকে আন্দোলিত করেছে এবং সাভারের ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে নিয়মের আওতায় আনতে হবে এবং দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি বলে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন আয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।