যৌন হয়রানি, বিচারহীনতা এবং সব ধরনের নিপীড়নের প্রতিবাদে ষষ্ঠ দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কর্মসূচি পালন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাত সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অদম্য বাংলা' প্রাঙ্গণে মশাল প্রজ্বলন ও প্রতিবাদী গণসংগীতের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপদ ক্যাম্পাস, ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং বিজয় ’২৪ হলের এক ক্যানটিন কর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ সামনে আসে। এসব ঘটনার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। রোববার সকালে তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
গণসংগীতের আসরে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত কণ্ঠে বিভিন্ন প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন। আয়োজকদের মতে, যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানটিন কর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা; যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই ক্লাবটি গঠনের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মশাল প্রজ্বালন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ খান জানান, "আজকের গণসংগীত কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলমান যৌন হয়রানি, বিচারহীনতা ও সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠ উচ্চারণ করা। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া এবং যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আগামী দিনগুলোতেও ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।"
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছে বলে জানান ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীন। তিনি বলেন, "পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত দুই কর্মদিবস শেষ হয়েছে এবং তদন্তকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে এবং এরপর দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হবে।
অন্যদিকে, ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রানা মিয়া বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট না থাকায় এখানে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু চলমান অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছি আমরা শিক্ষার্থীরাই। সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরব না। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত এ সংকটের স্থায়ী সমাধান জরুরি।”