নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধানও কার্যকর করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, "প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। একটি পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"
ব্যক্তিগত আচরণের পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা কিংবা নিয়মশৃঙ্খলা না মানলে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পরিবর্তনের সূচনা হতে হবে নিজের ভেতর থেকেই।"
নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পান এবং অপরাধীরা কঠোর শাস্তির আওতায় আসে।
মাদক সমস্যাকে সমাজের বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, "মাদক নির্মূলে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"
কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রধান ভিত্তি।"
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাসপাতালটি ইতোমধ্যে ৬০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এর অবকাঠামো, চিকিৎসাসেবা এবং সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জনবল সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। হাসপাতালটিকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
উক্ত সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েলসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।