সাভারের ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস রাজধানীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলে সরবরাহ করার এক চাঞ্চল্যকর চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাতের আঁধারে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে পরিচালিত এই চক্রটি প্রক্রিয়াজাত করা ঘোড়ার মাংস খাসি বা গরুর মাংস বলে উত্তরা, গাজীপুরের কাশিমপুর এবং আশুলিয়ার বিভিন্ন সাধারণ হোটেল ও বিরিয়ানি দোকানে পৌঁছে দিত।
তদন্ত ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৈয়বপুর এলাকার ড্রেন ও ময়লার ভাগাড় সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করত এই চক্রটি। দিনের বেলা বাড়িটি ফাঁকা থাকলেও রাতে সেখানে তৎপরতা বেড়ে যেত। স্বল্প আলোতে প্রতিদিন একাধিক ঘোড়া জবাই করা হতো। তবে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, রংপুর মার্কেট এলাকার আলফাজ নামের এক ব্যক্তি এই পুরো কার্যক্রমের নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছিলেন। স্থানীয়দের নজর এড়াতে তারা বর্জ্যের দুর্গন্ধ ও নির্জন পরিবেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত। জানা গেছে, রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘোড়াগুলো ওই বাড়িতে আনা হতো এবং রাতভর জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলত। এরপর ভোরে প্যাকেটজাত করে সেই মাংস আশুলিয়া, কাশিমপুর ও উত্তরের বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করা হতো।
এলাকার এক বর্জ্য সংগ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "দু-এক দিন পর পর আলফাজ নামের এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে আমাকে পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে যেতে বলতেন। এরপর কয়েকজন এসে বস্তায় রাখা ময়লা-আবর্জনা দিয়ে যেত। বস্তাগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতো। মাঝে মাঝে খুলে দেখতাম ভেতরে পঁচা ও রক্তাক্ত বর্জ্য রয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।"
ঘটনাটি নিয়ে ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য আছমা বেগম বলেন, "তৈয়বপুরের এই পরিত্যক্ত বাড়িটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন ছিল। রাতের আঁধারে নির্জন জায়গায় এমন জঘন্য ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চলা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ বাড়িটির সামনে ও পেছনে দুটি আলাদা পথ রয়েছে।"
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, "আমরা খবরটি পেয়েছি। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং আজকেই সেখানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।"