গাজীপুর জেলায় এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন শিল্পকারখানা মালিক এবং সাধারণ বাসিন্দারা। শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এই জেলায় নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৭৬টি, যার মধ্যে পোশাক কারখানা রয়েছে ১ হাজার ১৫৪টি। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানার একটি বিশাল অংশ গ্যাসনির্ভর, যেখানে কর্মরত আছেন প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক। বর্তমানে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং আবাসিক এলাকায় রান্নাবান্না নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

বিশেষ করে জেলার তিন শতাধিক ডাইং কারখানা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। এসব কারখানার বয়লার সচল রাখতে ন্যূনতম ৩ পিএসআই গ্যাসের চাপের প্রয়োজন হয়। মৌচাক এলাকার সাদমা গ্রুপের সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এক সপ্তাহে গ্যাসের চাপ কমে দশমিক ৫০ থেকে ১ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। সাদমা গ্রুপের পরিচালক সোহেল রানা বলেন, "৩ থেকে ৪ পিএসআই গ্যাস সরবরাহ থাকলে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন চালানো সম্ভব। বর্তমানে চাপ এতই কম যে শ্রমিকদের অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হচ্ছে এবং উৎপাদন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গেছে।"

ডাইং কার্যক্রম সচল রাখতে অনেক কারখানা মালিক চড়া দামে ডিজেল ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। চন্দ্রা এলাকার টাওয়াল টেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক জানান, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারায় ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

শিল্পকারখানার পাশাপাশি আবাসিক এলাকা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোনাবাড়ির গৃহিণী শারমিন আক্তার জানান, সকালে চুলা না জ্বলায় তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকেরা।

এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের উপমহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, গ্যাস সংযোগ লাইনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে আরও অন্তত তিন দিন সময় লাগবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, লাইন মেরামতের পরও গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।