রক ব্যান্ড ওন্ডের ভোকালিস্ট, বেজিস্ট এবং শব্দ প্রকৌশলী এ কে রাতুলকে হারানোর এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৫ সালের এই দিনে রাজধানীর উত্তরার একটি জিমে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাতুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওন্ড ব্যান্ডের গীতিকার সিয়াম ইবনে আলম। তিনি জানান, জিমে ব্যায়ামের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাতুল। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে লুবানা জেনারেল হাসপাতাল ও কার্ডিয়াক সেন্টারের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল হৃদরোগ।
প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীমের তিন সন্তানের মধ্যে মেজ ছিলেন রাতুল। তাঁর বড় ভাই এ কে সামী ওন্ড ব্যান্ডের ড্রামার এবং ছোট ভাই এ কে রাহুল সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত, যিনি ‘ট্রেনরেক’ ও ‘পরাহো’ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রাতুলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর ভাই সংগীতশিল্পী এ কে রাহুল জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আজ দুপুরে রাতুলের কবর জিয়ারত করা হবে। পাশাপাশি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সহায়তা, দোয়া ও খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।
সংগীত অঙ্গনে দক্ষ শব্দ প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত রাতুল ওন্ড ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালে ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘ওয়ান’, ২০১৭ সালে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘টু’ এবং ২০২১ সালে ‘ইপি এইটিন’ প্রকাশিত হয়। এছাড়া তিনি অর্থহীনের ‘ফিনিক্সের ডায়েরি-১’-এর শব্দ প্রকৌশলীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
রাতুলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের সংগীতশিল্পী ও তাঁর ভক্ত-শ্রোতারা। মৃত্যুর পর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের পার্ক মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে বনানীতে বাবা চিত্রনায়ক জসীমের কবরেই তাঁকে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মারা যান চিত্রনায়ক জসীম। বাবার মৃত্যুর প্রায় ২৭ বছর পর অকালেই চলে গেলেন তাঁর পুত্র রাতুল।