কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট গ্যাসের সংকটের প্রেক্ষাপটে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে, যার একটিতে গত মঙ্গলবার আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশে গ্যাসের সংকট বৃদ্ধি পায়।

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমান গ্যাস-সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং সরকারকে সহযোগিতার কথা বিবেচনা করে ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তাদের দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে সারা দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার কর্মসূচি বহাল থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, ‘আমরা জনদুর্ভোগ বাড়াতে চাই না। মহেশখালীতে সৃষ্ট সমস্যায় দেশজুড়ে ইতিমধ্যে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন ঘটছে। কাজেই আমাদের কর্মসূচি নতুন করে সমস্যা বাড়াক, সেটা আমরা চাই না।’

অন্যদিকে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, খাতটিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা বিদ্যমান। তারা সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি জানালেও গতানুগতিক আশ্বাস ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান পাননি।

সংগঠনটির নেতাদের দাবি, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান কমিশনে স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানিয়েছেন।