টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ঐতিহাসিক জেলখানাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় তা এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে স্থাপনাটির ভবনগুলো বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘকাল সংস্কার না করায় জেলখানার মূল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবকাঠামোতে ফাটল ধরেছে এবং অনেক অংশ ভেঙে পড়েছে। এমনকি দুষ্কৃতকারীরা ভবনের দরজা-জানালার লোহা ও রড লুট করে নিয়ে গেছে। চারপাশের ঝোপঝাড়ের কারণে সন্ধ্যার পর থেকে এখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সোলাইমান আলী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে জেলখানাটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সন্ধ্যার পর এখানে মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে।"

আরেক বাসিন্দা লুৎফর রহমান মনে করেন, অবকাঠামোটি পরিষ্কার ও সংস্কার করে নতুন কিছু তৈরি করা হলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

দেলদুয়ার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম ফেরদৌস আহমেদ জানান, ১৯৮১ সালের ২৭ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই জেলখানাটির গেজেট প্রকাশ করেন। মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিন আগে এই গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের অভাবে বিলীন হতে বসেছে।"

ফেরদৌস আহমেদ ওই জায়গাটি সংস্কার করে একটি ‘শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ গড়ে তোলার দাবি জানান। একই সঙ্গে এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, "পরিত্যক্ত জেলখানাটিতে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চালার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানটি সংস্কার করে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র বা অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"