ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাসের সংকটের মুখে রান্নার সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় খুঁজছেন অনেকেই। অনেকের ধারণা, কম আঁচে রান্না করলে গ্যাস কম খরচ হয়, আবার কেউ মনে করেন বেশি আঁচে দ্রুত রান্না শেষ করাই শ্রেয়। তবে বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস‍্য (গ‍্যাস) মকবুল–ই–ইলাহী চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "খুব বেশি আঁচ বা খুব কম আঁচ—কোনোটিই সব সময় সঠিক নয়। গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনমতো আঁচই যথেষ্ট।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলার আগুন যদি হাঁড়ি বা পাত্রের তলা ছাড়িয়ে দুই পাশে বেরিয়ে যায়, তবে সেই অতিরিক্ত তাপ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে গ্যাস পুড়লেও তার পুরো তাপ খাবারে কাজে লাগে না। এই কারণে অনেক সময় বেশি আঁচে রান্না করলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ না হয়ে বরং গ্যাসের অপচয় ঘটে।

তবে সব ক্ষেত্রে কম আঁচ কার্যকর নয়। রান্নার শুরুতে পানি ফোটানো বা তেল গরম করার মতো কাজে মাঝারি থেকে কিছুটা বেশি আঁচ প্রয়োজন হতে পারে। একবার ফুটতে শুরু করলে বা রান্না চলতে থাকলে আঁচ কমিয়ে দিলে অধিকাংশ খাবার ঠিকভাবেই রান্না হয়, যা অপ্রয়োজনীয় তাপের অপচয় কমিয়ে গ্যাস সাশ্রয় করে। জ্বালানির দক্ষতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, ফুটে ওঠার পর আঁচ কমিয়ে রান্না করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব।

গ্যাস সাশ্রয়ে আঁচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আরও কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—রান্নার সময় হাঁড়ির ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ ভেতরে আটকে থাকে, ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং কম সময় গ্যাস জ্বালাতে হয়। ডাল, ছোলা, মটর বা চাল আগে থেকে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সেদ্ধ হতে কম সময় লাগে। এছাড়া মাংস বা শক্ত খাবারের ক্ষেত্রে প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক কম সময়ে রান্না শেষ হয় এবং জ্বালানি সাশ্রয় হয়।

অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিপস হিসেবে বলা হয়েছে, রান্নায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করা, কারণ অতিরিক্ত পানি ফুটতে ও বাষ্প হতে বেশি সময় লাগে। পাত্রের আকার অনুযায়ী বার্নার ব্যবহার করা উচিত; ছোট পাত্র বড় বার্নারে বসালে তাপের অপচয় হয়। পাশাপাশি বার্নার পরিষ্কার রাখা জরুরি। বার্নারের ছিদ্র ময়লা বা কালিতে আটকে গেলে আগুন সমানভাবে জ্বলে না। শিখা যদি নীলের বদলে হলুদ বা কমলা রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে বার্নার পরিষ্কার করার প্রয়োজন আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক পরিকল্পনা। একই সময়ে কয়েকটি পদ রান্না করা, প্রয়োজনীয় উপকরণ আগে থেকেই কেটে-ধুয়ে প্রস্তুত রাখা এবং অযথা খালি হাঁড়ি চুলায় বসিয়ে না রাখা—এই ছোট অভ্যাসগুলো গ্যাসের অপচয় অনেক কমাতে পারে। পরিশেষে, গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য সব সময় সবচেয়ে কম আঁচ নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক আঁচ ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।