সাবেক সেনা কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এক জবানবন্দিতে বলেছেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে এক রাতে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছিল।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজ্জাদুল ইসলাম আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ জবানবন্দি দেন। এই মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান কারাগারে আছেন এবং আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
জবানবন্দিতে সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে তাঁরা একটি অপারেশনে যান। তিনি বলেন, ওই রাতে র্যাবের চারটি গাড়ি টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভার পার হয়ে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট চলে। পরে গাড়িগুলো একটি সেতুর ওপর দাঁড়ায়। তখন চোখ-হাত বাঁধা একজন বন্দীকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। তিনি আরও বলেন, জিয়াউল আহসান সেই বন্দীকে ধরে নিয়ে সেতুর রেলিংয়ের সঙ্গে ঠেকিয়ে মাথার পেছন দিক থেকে গুলি করে। পরে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে সেই বন্দীকে নিচে ফেলে দেন জিয়াউল। সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, কয়েক ঘণ্টা আগে র্যাবে যোগদান করার পর তিনি এসব ঘটনা দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন এবং এভাবে সে রাতে আরও দুজনকে হত্যা করা হয়।
‘ফ্যাসিবাদী শক্তি ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় ২৭তম সাক্ষী হিসেবে লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী আশরাফ কায়সার জবানবন্দি দেন। তিনি আজ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলো ফ্যাসিবাদী ও সহিংস চরিত্র ফুটিয়ে তোলে। গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। এ ধরনের ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার একসঙ্গে চলতে পারে না।
আশরাফ কায়সার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের দায়ভার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো বটেই, তাদের সুপ্রিম কমান্ডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, র্যাবের প্রধানের দায় রয়েছে। এ মামলার আসামিসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সব স্তরের নেতাদের দায় রয়েছে। এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এ মামলার সব আসামিই পলাতক।