চাঁদপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া এখনও প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বছরের পর বছর বিল পরিশোধ না করায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে একসময় এই বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২১ কোটি টাকায়। বর্তমানে নিয়মিত চলতি বিল পরিশোধের পাশাপাশি পুরোনো পাওনা ধাপে ধাপে শোধ করায় বকেয়া কিছুটা কমলেও বিপুল অঙ্কের বকেয়া বহাল থাকা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া জমতে শুরু করে। সময়ের ব্যবধানে তা প্রায় ২১ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। বকেয়া আদায়ে বিপিডিবি একাধিকবার তাগিদপত্র দিলেও পুরো অর্থ আদায় সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রিপেইড মিটারে আগাম টাকা রিচার্জ না করলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অথচ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
শহরের নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা নিশাত বলেন, আমরা প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ না করলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু পৌরসভা বছরের পর বছর বিল না দিয়েও বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। এটি বৈষম্যমূলক। পৌরসভাও যদি প্রিপেইড মিটারের আওতায় থাকত, তাহলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত কর ও বিভিন্ন ফি আদায় করা হলেও একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল বছরের পর বছর বকেয়া থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, অতীতে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনকালে এ বকেয়া সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা নিয়মিত চলতি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছি। পাশাপাশি প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে পুরোনো বকেয়াও পরিশোধ করা হচ্ছে। ফলে বকেয়া ২১ কোটি টাকা থেকে কমে এখন প্রায় ১৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। পৌরসভার আয়ের তুলনায় এত বড় বকেয়া হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিপিডিবির আওতায় চাঁদপুরে প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন। চাঁদপুর পৌরসভা ছাড়া বড় কোনো বকেয়া নেই। বকেয়া আদায়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও সময়মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা আর্থিক শৃঙ্খলার অংশ।