মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ, রকেট ও নগদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপ এবং গ্রাহক সুরক্ষা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানিতে এই রুল প্রদান করেন।

আদালতের এই রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিকাশ, রকেট ও নগদের আরোপিত স্বেচ্ছাচারী ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক ও ২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রবিধানের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না।

পাশাপাশি, সার্ভিস চার্জ নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তিসংগত, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা নিশ্চিত করতে গ্রাহক সুরক্ষা ও কার্যকর জবাবদিহি ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। রুলের জবাব দেওয়ার জন্য অর্থসচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ওবাইদুল্যাহ আল মামুন আবেদনকারী হয়ে গত ১০ জুলাই এই রিটটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন তিনি নিজেই। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

শুনানি শেষে আইনজীবী মো. ওবাইদুল্যাহ আল মামুন জানান, ২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রবিধানমালার মাধ্যমেই বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালিত হচ্ছে। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ব্যাংকের ক্ষেত্রে লেনদেনের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে (অঙ্কে) চার্জ নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিকাশ, রকেট ও নগদ শতকরা হিসাবে এই চার্জ নিচ্ছে। ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে লাখ টাকা লেনদেনে সাধারণত ১০ টাকা খরচ হয়। তবে বিকাশ, নগদ ও রকেট অ্যাপ থেকে অন্য ব্যাংকে লেনদেনে প্রতি হাজারে ১০ টাকা করে অর্থাৎ এক লাখ টাকায় এক হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।"

রিট আবেদনকারী ওবাইদুল্যাহ আল মামুন সাকিব আরও উল্লেখ করেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রবিধানমালা অনুযায়ী এই সেবা মূলত ব্যাংক হিসাব নেই অর্থাৎ ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের জন্য চালু করা হয়েছে। তবে বর্তমানে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপ করা হচ্ছে, যা প্রবিধানের ২ ও ৯ বিধির পরিপন্থী। এই কারণে তিনি রিটটি দায়ের করেছেন বলে জানান।