মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘কুমিল্লা’ নামের একটি ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া এক নারীকে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভাসমান কচুরিপানা ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যাওয়ার পর ফরিদপুরের কবিরপুর চর এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। আজ রোববার ওই নারীকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত নারীর নাম মোসা. লাইজু (৩৯)। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার আশরাফাবাদ ঝাউচর এলাকার ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ‘কুমিল্লা’ ফেরি। রাত আটটার দিকে মাঝনদীতে থাকাকালীন ফেরির ডেকের অংশ থেকে লাইজু নদীতে পড়ে যান। ঘটনার পরপরই ফেরির মাস্টার দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বরত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। একই সঙ্গে দুই ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়িকেও খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নদীতে তল্লাশি অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা জানান, তল্লাশির সময় ওই নারীর একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের ভেতরে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। লাইজু বরগুনা সদর উপজেলার উরবুনিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক গাজীর মেয়ে। ব্যাগে থাকা ফোনে কল করে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ জানতে পারে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার কবিরপুর চর এলাকায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, "পদ্মা নদীতে ভাসমান কচুরিপানা ধরে ভেসে যেতে যেতে তিনি কবিরপুর চরে পৌঁছান। স্থানীয় চার যুবক মাছ ধরার সময় তাঁকে উদ্ধার করেন।"
উদ্ধারকারী যুবকরা তাঁকে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের হেফাজতে দেন। কোতোয়ালি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) তপন নন্দী জানান, আজ সকাল ছয়টার দিকে ওই নারীকে ফাঁড়িতে আনা হয়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁর বোন মোসা. পলি খাতুন ও মামা আমিনুল ইসলামের হাতে তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।