ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’। শুক্রবারের এই অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের মুগ্ধ করার পাশাপাশি নিজের স্বভাবসুলভ রসবোধ দিয়ে পুরো মিলনায়তনকে হাসিতে ভরিয়ে দেন তিনি। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন দেশের নন্দিত অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রকর আফজাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আফজাল হোসেনকে মঞ্চে ডেকে রুনা লায়লা বলেন, ‘আপনি আপনার ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে এসেছেন, এ জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’ এরপর তাঁর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আমি কিন্তু সবার সঙ্গে হাত মেলাই না। কারণটাও জেনে নেন—আংটিগুলো আছে না, এগুলো যদি হুট করে কেউ নিয়ে নেয়!’ কথাটি বলে তিনি নিজেই হেসে ওঠেন এবং সাথে সাথে দর্শককুলও হাসিতে মেতে ওঠে। এরপর মজার ছলে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু উনি (আফজাল হোসেন) তো নিরাপদ।’
রুনা লায়লার হীরার আংটির সংগ্রহ নিয়ে ভক্তদের মাঝে দীর্ঘদিনের কৌতূহল রয়েছে। ১৫ বছর বয়সে করাচিতে মা আমিনা লায়লার কাছ থেকে পাওয়া একটি ডায়মন্ডের আংটির মাধ্যমে তাঁর এই সংগ্রহের সূচনা হয়। পরবর্তীতে পেশাদার সংগীতজীবনে তিনি নিজের পছন্দে আরও বিভিন্ন হীরার আংটি সংগ্রহ করেন, যা মঞ্চে তাঁর পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
রুনা লায়লার এই কথার প্রেক্ষিতে আফজাল হোসেন প্রায় ৪০ বছর আগের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জীবনের বিস্ময়গুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা আজও সেই বিস্ময় হয়ে আছেন।’ বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন নতুন অভিনয় শুরু করেছি। রিহার্সাল শেষে দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছি। আর রুনা লায়লা স্টুডিও থেকে বের হয়ে আসছেন। তিনি আমাকে দেখেননি, কিন্তু আমি দূর থেকে তাঁকে দেখছিলাম। হঠাৎ কথাটা মনে হলো, মাথাটা তখন যেন ঘুরছে। আমি সিঁড়ির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’
তার এই অনুভূতির ব্যাখ্যায় আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা তারকাখ্যাতির অনেক রূপ দেখেছি। সময়ের সঙ্গে অনেকের সেই দীপ্তি ম্লান হয়ে যায়। কিন্তু রুনা লায়লা নিজেকে যেভাবে বিশেষ করে রেখেছেন, তাই তিনি আজও সত্যিকার অর্থেই আকাশের তারকা। চার দশক আগে যেমন তাঁর তারকাদীপ্তি ছিল, আজও ঠিক তেমনই আছে।’
৭০০ আসনের জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই সব টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং অনুষ্ঠানে একটি আসনও ফাঁকা ছিল না। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর দেশাত্মবোধক গান ‘দেশের জন্য যাঁরা’ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন রুনা লায়লা। এরপর তিনি ‘শিল্পী আমি’, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘গানেরই খাতায়’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’, ‘আমায় গেঁথে দাও না’, ‘বন্ধু তিন দিন’, ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে’, ‘সাধের লাউ’ এবং প্রথমবারের মতো মঞ্চে নজরুলসংগীত ‘ভুলিতে পারি না’ পরিবেশন করেন। সবশেষে দর্শকের বিশেষ অনুরোধে জনপ্রিয় গান ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ গেয়ে সংগীতসন্ধ্যার সমাপ্তি টানেন তিনি।