রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাজধানীর গুলশানে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। বাড়ির নিচতলার বসার কক্ষটি নতুন করে রং করার পাশাপাশি আসবাবপত্র পরিষ্কার করা হচ্ছে।

শনিবার সকালে গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত ওই বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলার গাড়ি পার্কিংয়ের পাশের বসার কক্ষের সোফা ও টেবিলগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কক্ষের এক পাশে রঙের কৌটা রাখা 있으며, দেয়ালের পুরোনো রং ঘষে তুলে নতুন করে রং করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাড়ির সামনে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অবস্থান করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। ভেতরে ভাড়াটিয়াদের গাড়ির চালকেরা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন।

বাড়ির ব্যবস্থাপক কবির হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘স্যার কবে আসবেন, আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে আমাদের সবকিছু পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে রাখতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করছি। স্যার কয়েক দিনের মধ্যেই বাসায় আসতে পারেন।’

পরবর্তীতে তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে রং করা হবে। এরপর সোফাগুলো পরিষ্কার করা হবে। লোকজন আসবেন, বসবেন—সেই কারণেই জায়গাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গভবন ছেড়ে মো. সাহাবুদ্দিনের রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় ওঠার কথা রয়েছে। সে কারণে কয়েক দিন ধরেই বাসাটি বসবাসের উপযোগী করে গোছানো হচ্ছে এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সেখানে নেওয়া হয়েছে। বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটটিতে তিনি থাকতেন।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানান স্পিকার এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের মেয়াদে ২০২৮ সালের এপ্রিলে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই পদ ছাড়লেন তিনি।