তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জন নায়গন’ আজ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। তবে ছবিটির গল্পের চেয়েও দর্শকদের মাঝে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিনয়শিল্পীদের আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক। বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই ছবির জন্য বিজয় যে পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন, তা তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের তালিকায় শীর্ষে বসিয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ‘জন নায়গন’-এ মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিজয় প্রায় বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০০ কোটি টাকা পেয়েছেন। জানা গেছে, এই অর্থ তাঁকে সরাসরি পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং ছবির মুনাফায় অংশীদার হওয়ার কোনো চুক্তি ছিল না। যদিও নির্মাতা কিংবা অভিনেতার পক্ষ থেকে এই তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

এইচ বিনোথের পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিতে তিনি নিজেই তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। ‘জওয়ান’, ‘লিও’ ও ‘জেলার’-এর মতো সফল ছবির পর ‘জন নায়গন’-এর জন্য তিনি ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবির নায়িকা পূজা হেগড়ে, যিনি দক্ষিণের পাশাপাশি বলিউডেও জনপ্রিয়, এই সিনেমার জন্য ১০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, যার পারিশ্রমিক ১২ কোটি টাকার আশেপাশে বলে জানা গেছে। এছাড়া অন্যান্য অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে প্রকাশ রাজ ৭ কোটি টাকা, প্রিয়ামণি ৫ কোটি টাকা এবং গৌতম বাসুদেব মেনন ৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন। উল্লেখ্য, এই পলিটিক্যাল অ্যাকশন থ্রিলার ছবিটির বাজেট প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। অভিনয় জীবন থেকে অবসর নিয়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়, তাই ‘জন নায়গন’ তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ছবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মুক্তির প্রথম দিন থেকেই অগ্রিম বুকিংয়ে বিশাল রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। প্রি-সেলস এবং ব্লক করা আসন মিলিয়ে দেশে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা আয় করেছে ছবিটি। ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তির প্রথম দিনে বিশ্বজুড়ে এর আয় ১০৭-১১২ কোটি টাকার মধ্যে থাকবে, যার মধ্যে দেশের বক্স অফিস থেকে আয় প্রায় ৭০ কোটি টাকা। থালাপতি বিজয়ের এই বিদায়ী চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত কতটা বাণিজ্যিক সাফল্য পায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।