গ্রামবাংলার পরিচিত অনেক ফল এখন আধুনিক শহুরে জীবনে প্রায় বিলুপ্ত। দীর্ঘকাল এই তালিকায় ছিল কাউফল। তবে সম্প্রতি রাজধানীর সুপারশপগুলোতে পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে এই ফলটি, যা শহুরে মানুষের মাঝে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

শহুরে জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে প্রকৃতির কাছাকাছি ফেরার প্রবণতা এবং শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে অনেকে এই দেশজ ফলের প্রতি ঝুঁকছেন। পাশাপাশি, ডিজিটাল মাধ্যমে ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতার কথা ছড়িয়ে পড়ায় যারা আগে কখনো কাউফল দেখেননি, তারাও এর টক-মিষ্টি স্বাদে আগ্রহী হচ্ছেন। কাঁচা অবস্থায় মশলা দিয়ে ভর্তা, চাটনি বা আচার হিসেবে এবং পাকা অবস্থায় সরাসরি এই ফলটি খাওয়া যায়।

কাউফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান জানান, এই ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন এবং বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন সি অত্যন্ত জরুরি, যা মৌসুমি ফল হিসেবে কাউফল থেকে পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে বর্ষাকালের রোগবালাই প্রতিরোধে এটি কার্যকর। এছাড়া বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা শিশুদের চোখের জন্য উপকারী। ত্বকের কোলাজেন তৈরি এবং তারুণ্য ধরে রাখতেও কাউফলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানগুলো সহায়ক।

হজমের প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কাউফলের আঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি রক্তের খারাপ চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধামান্দ্য বা অরুচি দূর করে রুচি বাড়াতে কার্যকর।

তবে উপকারিতার পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। তিনি জানান, "কাউফল উপকারী। তবে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। হজমে সমস্যা হতে পারে।"

মিষ্টি কাউফলে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকায় স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এছাড়া লবণ, বিট লবণ বা কাসুন্দি যোগ করে খেলে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পাশাপাশি যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করছেন, তাদের খাদ্যতালিকায় কাউফল রাখার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।