কুষ্টিয়ার খোকসা রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি পরিবর্তনের প্রতিবাদে এবং তা পুনর্বহালের দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে শুরু করে টানা আড়াই ঘণ্টা এই অবরোধ চলে, যার ফলে কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ীগামী সব ধরনের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সিদ্ধান্তে বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি খোকসা স্টেশন থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী কুমারখালী স্টেশনে স্থানান্তর করা হয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শত শত মানুষ খোকসা স্টেশনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীরা দাবি আদায়ের ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা খোকন হোসেন বলেন, "এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক। খোকসাবাসী কোনোভাবেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না।"
আরেক আন্দোলনকারী সেলিম খন্দকার বলেন, “খোকসা কেবল তিনটি উপজেলা বা জেলার সীমান্ত নয়, এটি মূলত তিন বিভাগের সীমান্ত অঞ্চল। সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এই স্টেশন ব্যবহার করে কুমারখালী ও পাংশা এলাকার অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। আমরা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চাই।”
অবরোধ চলাকালে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন। তাঁর উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সমস্বরে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। হট্টগোলের মধ্যেই সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি ইতিমধ্যে রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ে কথা বলেছি। খোকসাতেও বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি বহাল থাকবে। একই সঙ্গে কুমারখালীতেও নতুন করে যাত্রাবিরতি দেওয়া হবে।”
পরবর্তীতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন জানান, সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে খোকসাতে চলমান যাত্রাবিরতি বহাল থাকবে এবং পাশাপাশি কুমারখালীতেও নতুন করে যাত্রাবিরতি দেওয়া হবে। এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং সাড়ে সাতটার দিকে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
কুমারখালী রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী আনিসুর রহমান জানান, অবরোধের কারণে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে কুমারখালী স্টেশনে আটকা পড়ে ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস, যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এছাড়া কুষ্টিয়া স্টেশনে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ও কালুখালীতে মধুমতি এক্সপ্রেস আটকা পড়েছিল। এই রুটের সব ট্রেনই প্রায় এক ঘণ্টা করে দেরিতে চলাচল করেছে।