ডিভাইসের বিক্রি বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন লিজিংভিত্তিক সেবা ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ চালু করতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ জুলাই থেকে এই সেবাটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন এই সেবার আওতায় গ্রাহকেরা মাসিক কিস্তির মাধ্যমে আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড এবং অ্যাপল ওয়াচের অধিকাংশ মডেল কিনতে পারবেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাইলে বাকি অর্থ পরিশোধ করে ডিভাইসটি নিজের করে নেওয়া যাবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মডেলে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে গ্রাহকদের জন্য। লিজের মেয়াদ শেষে ব্যবহৃত যন্ত্রটি নিজের কাছে রাখার বিকল্পও থাকছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণের হার বেড়েছে, যার প্রভাবে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে আইফোন ব্যতীত আইপ্যাড ও ম্যাকবুকসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়েছে অ্যাপল। নতুন এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো তুলনামূলক কম মাসিক কিস্তির সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের কাছে নতুন ডিভাইস পৌঁছে দেওয়া। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, এই কর্মসূচির আর্থিক অংশীদার হিসেবে থাকবে সুইডেনভিত্তিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ক্লারনা গ্রুপ। অ্যাপলের নিজস্ব রিটেইল স্টোর এবং অনলাইন স্টোর—উভয় মাধ্যমেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। বিদ্যমান অর্থায়ন কর্মসূচিগুলোর চেয়ে কম মাসিক কিস্তির সুবিধা দিয়ে এটি বাজারজাত করার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন এই সেবাটি চালু হলে বর্তমানে কার্যকর আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম এবং সাধারণ কিস্তিভিত্তিক অর্থায়ন কর্মসূচিতে নতুন গ্রাহক নিবন্ধন বন্ধ করে দেবে অ্যাপল। এর মাধ্যমে ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ সেবাটিকে ডিভাইস কেনার প্রধান অর্থায়ন মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বর্তমান আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রামের তুলনায় নতুন এই সেবায় অ্যাপল কেয়ার সুবিধা থাকবে না। এছাড়া অ্যাপল ওয়াচ এসই, এন্ট্রি লেভেলের আইপ্যাড, আইফোন ১৬ এবং ম্যাকবুক নিও মডেল এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেনাকাটাও এই সুবিধার বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
এই বিষয়ে রয়টার্স মন্তব্যের অনুরোধ জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি অ্যাপল ও ক্লারনা গ্রুপ।