নরসিংদীর শিবপুরে অবস্থিত ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের স্যামসাং পণ্য উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জিজুন কিম। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের শিল্পায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত ফেয়ার ইলেকট্রনিকসকে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় উৎপাদন এবং শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার একটি সফল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
বুধবার দুপুরে শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলায় অবস্থিত কারখানায় পৌঁছান রাষ্ট্রদূত। তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন স্যামসাং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাংমিন জাং। তাঁদের স্বাগত জানান ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব, পরিচালক মুতাসসিম দাইয়ান এবং ফেয়ার গ্রুপ ও স্যামসাং বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কারখানা পরিদর্শনের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জিজুন কিম, জাংমিন জাং এবং রুহুল আলম আল মাহবুব বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে জিজুন কিম বলেন, "বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পরিশ্রমী জনশক্তি, সহায়ক সরকারি নীতিমালা ও কোরিয়ার প্রযুক্তির সমন্বয়ে বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনশিল্পের সুরক্ষা, শুল্ক ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্যামসাং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাংমিন জাং জানান, ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং স্যামসাংয়ের বৈশ্বিক মান বজায় রাখা হবে। তিনি বলেন, এআই-চালিত টিভি, গ্যালাক্সি এআই স্মার্টফোন এবং ‘স্মার্ট থিংকস’-এর মাধ্যমে সংযুক্ত ‘বিস্পোক’ গৃহস্থালি পণ্য নিয়ে স্যামসাং একটি সমন্বিত এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে, যা গ্রাহকদের আরও স্মার্ট ও সুবিধাজনক জীবনধারা নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে, ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশিল্পকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি সরকারের কাছে ‘গ্রে মার্কেট’ এবং অননুমোদিত মুঠোফোন আমদানির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সহায়ক সরকারি নীতিমালা স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি রাজস্ব আয়, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফেয়ার গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের যাত্রাপথ ও অর্জন সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি জানান, ফেয়ার ইলেকট্রনিকস ডিস্ট্রিবিউশন থেকে স্থানীয় উৎপাদনে সফলভাবে উত্তরণ ঘটিয়েছে। ২০১৪ সালে স্যামসাংয়ের আনুষ্ঠানিক ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে স্থানীয় উৎপাদন শুরু করে এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রথম স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্যামসাং স্মার্টফোন বাজারে আনে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্যামসাং বাংলাদেশের এমএক্স বিজনেসের পরিচালক ড্যানিয়েল রি, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস বিজনেসের পরিচালক শাহরিয়ার বিন লুৎফর, ফেয়ার গ্রুপের পরিচালক সেলিম রেজা, হেড অব মার্কেটিং জে এম তসলিম কবীর, ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের হেড অব বিজনেস মশিউর রহমান, দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাসের থার্ড সেক্রেটারি হিওন চো এবং পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র স্পেশালিস্ট জিওন পার্ক।