একদিকে ফিফা থেকে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিদায় চাইছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। অন্যদিকে ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির প্রধানকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হিসেবে ইনফান্তিনোকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্রটির দাবি, ইনফান্তিনোকে বিশ্বজুড়ে সম্মানিত এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি মনে করেন ট্রাম্প। এসব গুণই জাতিসংঘের শীর্ষ পদের জন্য তাকে উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে বলে ধারণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
পর্তুগালের গুতেরেস ২০১৭ সাল থেকে জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে তার দ্বিতীয় মেয়াদ। নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
ইনফান্তিনোকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হতে হলে জাতিসংঘের কোনো সদস্যদেশের মনোনয়ন প্রয়োজন হবে। এরপর নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ নতুন মহাসচিব নিয়োগ দেবে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে তার প্রার্থিতা আটকে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস কিংবা ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী ও কূটনীতিক পাওলো জাম্পোল্লিও ইনফান্তিনোর পক্ষে কথা বলেছেন। বর্তমানে বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বে থাকা জাম্পোল্লির মতে, জাতিসংঘ মহাসচিব ও ফিফা সভাপতির কাজের মধ্যে বেশ মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবকে ১৯৩টি সদস্যদেশের সঙ্গে কাজ করতে হয়। ফিফায় সদস্যসংখ্যা ২১১। ফলে বিভিন্ন দেশ ও স্বার্থের মধ্যে সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা ইনফান্তিনোর আগে থেকেই রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে দুজন একসঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের হাতে পদক ও শিরোপা তুলে দেন। এর আগে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিল ফিফা।
জাতিসংঘের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা অবশ্য ইনফান্তিনোর নিজের পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদে আবারও ফিফা সভাপতি হতে চান তিনি। আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে নির্বাচন হবে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীও সামনে আসেননি।
জাতিসংঘ মহাসচিব হওয়ার আলোচনায় লাতিন আমেরিকার কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এবং ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফেরনান্দা এসপিনোসার নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে ট্রাম্প সত্যিই ইনফান্তিনোকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেবেন কি না কিংবা ফিফা সভাপতি নিজে এই পদে আগ্রহী কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।