আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে গিয়ে ঘরোয়া লিগ ও ক্লাবগুলোর ক্ষতি করছে ফিফা। এমন অভিযোগ তুলে সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস।
ইতালির সংবাদপত্র লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনোর সরে দাঁড়ানো উচিত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তেবাস বলেন, তার মতে ফিফা সভাপতির সময় শেষ হয়ে গেছে।
আগামী বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে টানা চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদের নির্বাচন হবে আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোয়। তবে তেবাসের ধারণা, ফুটবলাঙ্গনে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো প্রার্থী নেই।
লা লিগা সভাপতি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ইনফান্তিনোর বিদায়ের সম্ভাবনা খুব কম। অনেকেই তার কাজের বিরোধিতা করেন এবং প্রকাশ্যে সমালোচনাও করেন। কিন্তু নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখান না কেউ। তেবাসের মতে, ফিফার গোটা ব্যবস্থাতেই মৌলিক ত্রুটি রয়েছে।
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে দেওয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তেবাস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফিফা। পরে শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় স্বাগতিকরা।
তেবাসের দাবি, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। যুক্তরাষ্ট্র পরের পর্বে উঠলে এ নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, যা ইনফান্তিনোর পদও কেড়ে নিতে পারত। বেলজিয়ামের জয়ে বিষয়টি চাপা পড়ে গেছে বলেও মনে করেন তিনি।
ফিফার সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার বিরোধ যখন প্রকাশ্যে এসেছে, তখনই তেবাস এমন মন্তব্য করলেন। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, রেফারিং এবং ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে মতবিরোধের কারণে স্পেন ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালেও উপস্থিত ছিলেন না উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন।
২০৩০ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছেন তেবাস। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংস্থার সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেস শতবর্ষী আসরটি ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন সম্ভাবনা বিবেচনার কথাও জানিয়েছেন ইনফান্তিনো।
তেবাসের মতে, বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর হলেও সবকিছু একে কেন্দ্র করে পরিচালিত হতে পারে না। ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোই বছরজুড়ে ফুটবলকে সচল রাখে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে। মাত্র ৪০ দিনের একটি প্রতিযোগিতার জন্য সেই কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।