বিশ্বকাপ ফাইনালের পরাজয়ের বেদনা বুকে নিয়ে নিজের জন্মশহর রোজারিওতে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ব্যক্তিগত বিমানে রোজারিও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই অধিনায়ক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও তিন সন্তান। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপি-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-এর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধূসর রঙের একটি এসইউভিতে করে মেসি রোজারিওর পার্শ্ববর্তী শহর ফুনেসের একটি সুরক্ষিত আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করছেন। সাধারণত রোজারিও সফরের সময় তিনি ফুনেসের শহরতলিতে অবস্থিত তাঁর বাড়িতেই অবস্থান করেন।
রোজারিওতে মেসির অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর ৬৮ বছর বয়সী বাবা হোর্হে মেসি। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ চলাকালেই পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, অসুস্থতার কারণে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন হোর্হে মেসি।
প্রিয় তারকাকে একনজর দেখার জন্য রাত সাড়ে তিনটার আগে থেকেই বিমানবন্দরে ভিড় জমাতে শুরু করেন সমর্থকেরা। তাঁদের মধ্যে আকাশি-সাদা জার্সিতে সজ্জিত দুই শিশুও ছিল, যাদের হাতে ছিল অভ্যর্থনার ব্যানার। একটি ব্যানারে লেখা ছিল: ‘মেসি: তুমি জীবন্ত কিংবদন্তি। আমাদের হৃদয়ে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। পুরো দেশ তোমাকে ভালোবাসে!’
এদিকে, আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিসহ অধিকাংশ খেলোয়াড় সোমবার রাতে বুয়েনস এইরেসে পৌঁছান। সেখানে হাজারো সমর্থক করতালি, স্লোগান, পতাকা এবং অশ্রুসিক্ত আবেগে তাঁদের স্বাগত জানান।
গত রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে মেসিকে কাঁদতে দেখা যায়। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ৮টি গোল করেছেন।
এমএলএসের নতুন মৌসুম গত শুক্রবার শুরু হলেও বিশ্বকাপ শেষে অতিরিক্ত বিশ্রাম পাবেন মেসি ও তাঁর সতীর্থ রদ্রিগো দি পল। ইএসপিএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএসের পরবর্তী দুটি ম্যাচে খেলবেন না তাঁরা। আগামী বুধবার শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে তাঁদের মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এমএলএস অল-স্টার ম্যাচেও তাঁদের দেখা যাবে না।