বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে ফিফা। গত রোববার ফাইনালে স্পেনের ১–০ গোলের জয়ের পর ফিফার অফিশিয়াল ম্যাচ ট্র্যাকারে পারেদেসের নামের পাশে লাল কার্ড দেখানো হলেও কিছুক্ষণ পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার কারণে পারেদেসের বিরুদ্ধে আলাদা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে খেলা শেষে তিনি স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেন। এছাড়া স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন পারেদেস।
গত সোমবার ফিফা জানিয়েছে, ফাইনালের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত করতে একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সংস্থাটি একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারে। ওই প্রসিকিউটর ঘটনার তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরুর সুপারিশ করতে পারেন। পাশাপাশি ফুটবল ফেডারেশন, ক্লাব কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও দিতে পারেন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় শুধু লিয়ান্দ্রো পারেদেস নন, আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ফাইনালের পরের সংঘর্ষের ভিডিওতে দেখা গেছে, শেষ বাঁশি বাজার পর সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপন করতে করতে মাঝমাঠের দিকে দৌড়ে যাওয়া স্পেন অধিনায়ক রদ্রির পেটে ঘুষি মারেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা ম্যাচ শেষে স্পেনের দানি ওলমোকে ঘুষি মারছেন।
এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন পারেদেস। তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ, আর্জেন্টিনা! আজও, সব সময়ের মতোই আমি তোমাকে ভালোবাসি। আজ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লিখছি। কারণ, আমরা আমাদের দেশকে সেই আনন্দ এনে দিতে পারিনি, তারা সত্যিই যার যোগ্য ছিল। কিন্তু আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি এবং আবারও আমাদের পতাকাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় তুলে ধরেছি।’