মানিকগঞ্জে বাকিতে যানবাহনের যন্ত্রাংশ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত নেতাকে সংগঠনটির পদসহ সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শাহিন মিয়া জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গতকাল সোমবার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল কাদের মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক লিটনের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাঁর সাময়িক অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে গত রোববার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ব্যবসায়ী মানিক মিয়া।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার রাত আটটার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার মানিক মিয়ার দোকানে গিয়ে বাকিতে যানবাহনের যন্ত্রাংশ চান শাহিন মিয়া। বাকিতে মালামাল দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিককে গালাগাল করেন শাহিন এবং মারধরের হুমকি দেন। পরদিন রোববার বেলা ১১টার দিকে পুনরায় দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীকে গালাগাল করেন শাহিন। এ সময় তাঁকে মারধর ও দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

জেলা শ্রমিক দলের দেওয়া নোটিশে জানানো হয়েছে, বাকিতে মালামাল কেনাকে কেন্দ্র করে দোকানির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী এবং সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী বলে মনে হয়েছে। এ জন্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাহিন মিয়াকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদসহ সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহিন মিয়া। তিনি বলেন, "আমি ওই দোকান থেকে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কেনেন। পরিবহনশ্রমিকদেরও সেখান থেকে যন্ত্রাংশ কিনতে পাঠান। ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে কথা–কাটাকাটি হয়েছে, তবে কাউকে হুমকি দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।"

এদিকে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।