জুলাই বিপ্লবের রক্তস্নাত স্মৃতি ও প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা নিয়ে কবিতা লিখেছেন নাদিয়া জান্নাত। তাঁর রচিত কবিতায় ফুটে উঠেছে জুলাইয়ের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর চিত্র এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ।

কবিতার শুরুতেই তিনি লিখেছেন, "ফুলের করুণ মৃত্যু মাড়িয়ে, আছেন ঘুমিয়ে যারা / মাত্রাজ্ঞানে যাদের চেতনা এমনি এমনি খাড়া / তাদের বলছি, গুলিতে ঝাঁঝরা ভাইয়ের দেহ দেখে / ছেলের লাশেও চালাও অস্ত্র, অস্ত্র চালাও চোখে"।

বিপ্লবের রক্ত ও সংহতির কথা উল্লেখ করে কবি বলেন, "বদলা নেয়ার সাহস এবার সর্বহারার দেশে / সাঈদের লাল রক্ত গিয়েছে আমাদের দেহে মিশে / হাসপাতালের মৃতের সংখ্যা, মর্গে নিথর দেহ / বাড়ির গেটে জালিম পাঠিয়ে জানটা কবজ করো / তবু, পথে পথে পানির বোতল বিলিয়ে দিয়েছে ভাই / উন্নয়নের গল্প ফাঁদার হত্যাবিচার চাই"।

রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও নৃশংসতার কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেছেন, "বাবার বুকের মাঝবরাবর মেয়ের মৃত্যু দিলে / পায়নি রক্ষা, কিশোর ছেলেরা, রাষ্ট্র কোথায় ছিলে? / শহীদ পুত্র তাকিয়ে আছেন, মাটির নিচেই দেহ / ভক্তপ্রেমী মাবুদ এবার, খুনির বিচার করো"।

স্বৈরাচারের পতন এবং চূড়ান্ত বিচারের প্রত্যাশায় কবি লিখেছেন, "কবর ভেঙে মিছিল লাশের নামবে যখন পথে / ও স্বৈরশাসক পালাবে কোথায়, কোন সে গোপন রথে! / সত্যি স্বাধীন মাটিতে ঘুমিয়ে, থাকবে তিন শ ভাই / হীরক রাজার পতন ঘটাতে কয় শ শরীর চাই / গ্যালন গ্যালন রক্তে রাঙা নিথর রাষ্ট্রভূমি / জুলুমকারীর পতন ঘটিয়ে মুক্ত হবেই তুমি"।

৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে লেখা এই কবিতায় নাদিয়া জান্নাত জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং একটি মুক্ত রাষ্ট্রের স্বপ্ন ফুটিয়ে তুলেছেন।