বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মনোনয়নের সুযোগ থাকা প্রবিধানমালার ৭ বিধি সংশোধন অথবা নতুন প্রবিধান প্রণয়নের প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এক রিটের প্রাথমিক শুনানির পর এই রুল দেন।
আদালতের এই রুলে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের জন্য ২০২৪ সালের প্রবিধানমালার ৭ বিধি সংশোধন অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত বা রাজনৈতিক দলের পদাধিকারী ব্যক্তিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে নির্বাচন, মনোনয়ন কিংবা অনুমোদনের অযোগ্য ঘোষণা করে নতুন প্রবিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
একই সাথে স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সৎ ও সুপরিচিত সমাজকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিককে এসব কমিটির অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে বিচারিক নির্দেশনা কেন জারি করা হবে না, রুলে সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়। ওই প্রবিধানের ৭ বিধিতে বলা হয়েছে, গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শক্রমে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মচারী, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত-সংবলিত প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডের কাছে পাঠাবে। তবে শর্ত থাকে যে, সভাপতি পদে প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের নামের তালিকাক্রম মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অগ্রাধিকারক্রম হিসেবে গণ্য হবে না। শিক্ষা বোর্ড উপবিধির অধীন প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে একজনকে গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি মনোনীত করবে।
প্রবিধানমালার ৭ বিধির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে জামালপুরের বাসিন্দা এবং নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. রুবেল মিয়া গত মাসে রিট আবেদন করেন। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. নাদির খান এবং সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. সোহেল রানা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।
আইনজীবী মো. নাদির খান জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে হবে। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে সভাপতি পদে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বা পদধারী ব্যক্তিকে মনোনয়ন করা হলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম তথা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে কখনো কখনো জটিলতা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা তথা দলীয় প্রভাবমুক্ত গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি কমিটিতে নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন। যে কারণে রিটটি করা হয়।"