বুলাওয়েতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাটকীয়তায় ভরপুর ছিল। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৫ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের, হাতে ছিল ৬ উইকেট। সহজ জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ ওভারের শুরুটা ছিল উত্তেজনাকর। ব্রাড ইভান্সের প্রথম বলে দৌড়ে রান নেন তানজিদ হাসান। তবে পরের বলে ৩ বলে ১ রান করে বোল্ড হন মোসাদ্দেক। তার ঠিক পরের বলে ছক্কা মারার প্রচেষ্টায় মিড অনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

তিন বলে চার রান প্রয়োজন এমন মুহূর্তে চতুর্থ বলে মেহেদী হাসানের প্যাডে বল লাগে। এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আম্পায়ার সেটিকে ডেড বল ঘোষণা করেন, কারণ বল করার সময় ফিল্ডার হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই তর্কে জড়িয়ে পড়েন ইভান্স ও তানজিদ। তবে পরের বলেই চার মেরে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন মেহেদী হাসান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও তানজিদ ও ইভান্সের মধ্যে তর্ক চলতে থাকে। ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২ বল বাকি থাকতেই জয় পাওয়া এই ম্যাচের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, এই সফরে একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে হারায় ওপেনার তাদিয়ানসি মারুমানিকে, যার সংগ্রহ ছিল ৫ বলে ৪ রান। এরপর দলের হাল ধরেন ব্রায়ান বেনেট ও মায়ার্স। খুব দ্রুত রান না তুললেও তারা উইকেট ধরে রাখেন। ১১তম ওভারের শেষ বলে ৩৮ বলে ৪৭ রান করে আউট হন বেনেট, তখন জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৭৭ রান। এরপর রান তোলার গতি বাড়িয়ে ৩৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মায়ার্স। তবে তাঁর সঙ্গী হিসেবে কেউ থিতু হতে পারেননি। ৫৩ বলে ৭৩ রান করে রান আউট হওয়ার পর জিম্বাবুয়ের রান সংগ্রহের গতি কমে যায়। শেষ ওভারে তাসকিন কোনো বাউন্ডারি না দিয়ে মাত্র ৬ রান খরচ করায় দেড়শ রান পার করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। বেনেট ও মায়ার্স ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

জিম্বাবুয়ের ১৪৪ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন সাইফ হাসান। পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে মাত্র ৩০ রান। পারভেজ ও তানজিদের ৪৭ বলে ৫৫ রানের জুটি ভেঙে যায় যখন সিকান্দার রাজার বলে পারভেজ ক্যাচ আউট হন। তবে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ ৪৪ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটি বাংলাদেশের মুঠোয় নিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ৬৬ রান করে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন ওপেনার তানজিদ হাসান।