নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে দুই ভাইকে ডেকে নিয়ে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে একজনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার কুমারডাঙ্গা এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আলিনুর ফকির (৩০) লোহাগড়া উপজেলার কুমারডাঙ্গা গ্রামের আবদুল হাই ফকিরের ছেলে। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে একই গ্রামের রাজিব শেখের (৩০) নাম সামনে এসেছে।
নিহত ব্যক্তির স্বজনদের দাবি, গত রমজান মাসে আলিনুরের বড় ভাই আমিনুর ওই গ্রামের রাজিব শেখকে ১৮ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। কথা ছিল এক মাসের মধ্যে টাকাটি ফেরত দেওয়া হবে। তবে রাজিব নানা অজুহাতে টাকা পরিশোধে টালবাহানা করতে থাকেন।
গতকাল রাতে টাকা দেওয়ার কথা বলে আমিনুরকে ডেকে নেন রাজিব। আমিনুর তাঁর ছোট ভাই আলিনুরকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। তবে দুই ভাই সেখানে পৌঁছালে রাজিব টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে আলিনুরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহত আলিনুরের বড় ভাই আমিনুর জানান, “রাত সাড়ে নয়টার দিকে সে (রাজিব) কয়, ভাই, আইসে টাকা নিয়ে যা। ছোট ভাইরে সাথে নিয়ে গেছি। আমরা দুই ভাই গেছি টাকা আনতি, খালি হাতে। ওহানে ওগের বাপ-চাচা, ছেলেপেলে, বংশের লোকজন অনেক। যাওয়ার পর কচ্ছে, টাকা এক সপ্তাহ পরে দেব। এরপর টাকাপয়সা চাওয়াচাওয়ি নিয়ে চিল্লাপাল্লা ও হাতাহাতি হয়ছে। এরই মধ্যি দেখি, আলিনুররে কোপ দেছে।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাজিব শেখসহ তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপন করায় তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।