দ্বিতীয়বার রিং বাজতেই ফোন ধরলেন সাদনিমা বিনতে নোমান। শুক্রবার, তাই শুটিং নেই, ঘুমও ভেঙেছে মাত্রই। একটু সময় চেয়ে নিয়ে বললেন, ‘আধা ঘণ্টা সময় দেবেন? একটু ফ্রেশ হয়ে নিই।’ ঠিক আধা ঘণ্টা পরই নিজেই কল ব্যাক করলেন অভিনেত্রী। এরপর শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবন নিয়ে আড্ডা।

ছুটির দিনের পরিকল্পনা জানাতে সাদনিমা বলেন, ‘এ দিনটাতে সব সাক্ষাৎ, মিটিং রাখি—আজকেও একটা আছে। এর বাইরে পরিবার ও বন্ধুদের সময় দিই।’ পর্দায় ব্যস্ততা ও তারকাখ্যাতি বাড়লেও সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ করেন তিনি। তারকাখ্যাতি প্রসঙ্গে সাদনিমা বলেন, ‘জীবনযাত্রার মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগেও যেভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি, এখনো তেমনই আছি। এখনো আগের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সেই পুরোনো টংদোকানেই আড্ডা দিই।’

চলতি মাসে ইউটিউবে সাদনিমার বেশ কয়েকটি নাটক মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছে রুবেল আনুশ পরিচালিত নাটক ‘মনডুবি’। নাটকে তাঁর অভিনীত ‘নয়না’ চরিত্রটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাটকের বিভিন্ন গ্রুপে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই নাটকে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই খায়রুল বাসারের বিপরীতে বেশি কাজ করেছেন সাদনিমা এবং দর্শকদের কাছে এই জুটি বেশ প্রশংসিত। এই জুটি সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, ‘খায়রুল বাসার ভাইয়ার সঙ্গে আমার কাজের শুরু, তাই আমাদের বোঝাপড়াটা সব সময়ই ভালো। তিনি আমাকে অভিনয়ের ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’

তবে অনস্ক্রিন জনপ্রিয়তার কারণে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জনের মুখেও পড়েছেন তিনি। এ বিষয়ে সাদনিমার স্পষ্ট জবাব, ‘ইতিমধ্যে এ ধরনের গুঞ্জনের মুখোমুখি হয়েছি, তবে বরাবরই এগুলো এড়িয়ে চলি। ইন্ডাস্ট্রিতে কেবল কাজ করতেই এসেছি, বর্তমানে নিজের কাজেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছি, অন্য কিছুতে নয়।’ দর্শকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গুজবে কান দেওয়া উচিত নয়।’

‘মনডুবি’ নাটকে সাদনিমা অভিনয় করেছেন মফস্‌সলের স্বপ্নবান তরুণী ‘নয়না’র চরিত্রে, যার বিশেষ বৈশিষ্ট্য তার দীর্ঘ ও ঘন চুল। অন্যদিকে খায়রুল বাসারের চরিত্রটি জীবিকার তাগিদে চুলের তেল বিক্রি করেন। ঘটনাক্রমে দুজনের পরিচয় হয় এবং গল্পের মোড় ঘোরে নয়নার স্বপ্নকে কেন্দ্র করে।

নাটকটিতে সাদনিমার একটি বিশেষ লুক দর্শকদের নজর কেড়েছে, যেখানে তাঁকে ন্যাড়া মাথায় দেখা গেছে। এই লুকের জন্য তিন ঘণ্টার বেশি সময় মেকআপ নিতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে সাদনিমা বলেন, ‘এর জন্য আলাদা একজন মেকআপ আর্টিস্ট কাজ করেছেন। আমার চুল অনেক ঘন, তাই টিমকে বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে পুরো লুকটি সম্পন্ন হওয়ার পর নিজেকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। চুল তো সব নারীর কাছেই খুব প্রিয়, যাঁরা কোনো কারণে চুল হারান, তাঁদের কষ্টটা তখন যেন কিছুটা অনুভব করতে পেরেছি। প্রায় ১০ মিনিট আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে শুধু তাঁদের কথাই ভাবছিলাম।’

ছোট পর্দার পাশাপাশি ‘রাক্ষস’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তাঁর। বাণিজ্যিক সিনেমার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমে রাজি হইনি, সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় নিয়েছিলাম। আমি দেখতে চেয়েছিলাম চরিত্রটি সিনেমার গল্পে কতটা প্রভাব ফেলছে। যেহেতু এটি কমার্শিয়াল ফিল্ম ছিল, তাই ভাবলাম এ অভিজ্ঞতাটা থাকা ভালো। এখন মনে হচ্ছে সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। কারণ, সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি।’

বর্তমানে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম নিয়ে প্রাথমিক আলাপ চলছে সাদনিমার। তবে গোপনীয়তার কারণে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।