ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় মেঘলা আকাশের আবহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’। শুক্রবার সকালে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি ও চারুকলা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সাদা, সবুজ ও নীল রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে সেজে বর্ষার আমেজ ফুটিয়ে তোলেন উপস্থিত দর্শকরা।

শ্রাবণের মেঘলা সকালে বকুলতলার সামনে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বসার জায়গা না থাকায় অনেকেই দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন, আবার ভিড়ের চাপে অনেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও লোকসংগীতের মূর্ছনায় শিল্পীরা পরিবেশন করেন একের পর এক নৃত্য। মঞ্চসজ্জা এবং প্রকৃতির মেঘলা আকাশ ও খোলা হাওয়া পুরো পরিবেশকে বর্ষার আমেজে ভরিয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানের শুরু হয় ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ গানের পরিবেশনার মাধ্যমে, যা দর্শকদের করতালিতে মুখরিত করে। এরপর ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে’, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে’, ‘এসো শ্যামল সুন্দর’, ‘রুম্ ঝুম্’ এবং ‘মোর ভাবনারে কী হাওয়ায় মাতালো’সহ মোট ১৬টি গানে নৃত্য পরিবেশিত হয়। সবশেষে ‘আমরা সবাই রাজা’ গানের মাধ্যমে পরিবেশনা শেষ করেন অর্থী আহমেদ ও তাঁর দল।

এই নৃত্য উৎসবে ৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রায় ৩০০ জন অপেশাদার শিল্পী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শিশুসহ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক ও গৃহিণীর মতো বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিলেন। আয়োজক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী অর্থী আহমেদ বলেন, ‘ঘনঘটা শুধু একটি নৃত্য প্রযোজনা নয়, বরং এটি নতুন করে শুরু করার উৎসব, যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়, আর মনের ভেতরে চেপে রাখা স্বপ্নকে ডানা মেলতে দেওয়া হয়।’

আকাশে মেঘ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নামেনি, তবে নৃত্যের ছন্দে মেতেছিলেন দর্শকরা। দর্শকসারিতে তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী ও প্রবীণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল বেশি। বনানী থেকে পরিবারের সঙ্গে আসা দর্শক ফারিহা আলম বলেন, ‘আমি নিজেও নাচ শিখছি। আয়োজনটি দেখে মুগ্ধ হলাম।’

বর্ষা উদ্‌যাপনের পাশাপাশি এই উৎসবের একটি মানবিক দিক ছিল সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা। অনুষ্ঠানে জাগো ফাউন্ডেশনের একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে দর্শকরা সহায়তার অর্থ জমা দেন। পরিবেশনা শেষে অর্থী আহমেদ দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের আয়োজন ভালো লেগে থাকলে আপনাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ডোনেট করবেন প্লিজ। আপনাদের প্রতিটি কনট্রিবিউশন একটা মিনিংফুল এফেক্ট ফেলবে। এখান থেকে ভালো কনট্রিবিউশন না দিতে পারলে এই উৎসবের কোনো মানে নাই।’