ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর আবারও হয়ে উঠেছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে হাজির হয়েছেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি, অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং মডেল ও অভিনেত্রী পুনম পান্ডেসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
গতকাল সোমবার ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে আন্দোলনকারীরা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দিলেও দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে সামনে এগোতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ছাত্র ও তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জাতীয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং স্বচ্ছতার অভাব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই দাবিদাওয়া নিয়ে গত ৬ জুন থেকে তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনটি জাতীয় আলোচনায় আসে ২৮ জুন, যখন লাদাখের পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার বাস্তব অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত ওয়াংচুক বলেন, বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। টানা অনশনের ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৯ জুলাই আদালতের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে।
গত রোববার সন্ধ্যায় আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন শাবানা আজমি। সেখানে বেশ কয়েক দিন ধরে অনশনরত এক নারী আন্দোলনকারীর পাশে বসে তাঁর হাত চুম্বন করে এবং স্নেহভরে মুখে হাত বুলিয়ে সাহস জোগান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আবেগঘন মুহূর্তটি ছড়িয়ে পড়ে। মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে শাবানা জানান, তিনি সোনম ওয়াংচুক এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন।
আন্দোলনে যোগ দিয়ে অভিনেতা প্রকাশ রাজ বলেন, ‘আজ রাতে আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। সামনে কী হয়, আমরা দেখব।’ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আমাদের দেশের তরুণেরা শুধু প্রশ্ন করছে।’ ভিডিওটিতে তাঁর পেছনে আন্দোলনকারীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পাশাপাশি অভিনেত্রী পুনম পান্ডেও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ইস্যু নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।