গত মাসে তুরস্কের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এজে ইরতেমের মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘ রহস্যের অবসান ঘটল। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে বলা হয়েছিল তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভিন্ন কারণ সামনে এসেছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় ফরেনসিক সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যালকোহল বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রীর। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর শরীরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহৃত কিছু ওষুধের উপাদান পাওয়া গেছে। এই ওষুধগুলো অ্যালকোহলের সঙ্গে মিশে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অ্যালকোহলের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

গত ১৫ জুন ইস্তাম্বুলের নিজ বাসায় মারা যান ইরতেম। মৃত্যুর সময় তাঁর মা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তাঁর আইনজীবী জানিয়েছিলেন, "প্রাথমিকভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে।"

মৃত্যুর পর বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। কেউ দাবি করেছিলেন থাইল্যান্ড সফরের সময় বানরের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, আবার কেউ মনে করেছিলেন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের সঙ্গে অ্যালকোহল সেবনের কারণে এমনটি ঘটেছে। তবে প্রাথমিক ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে কোনো আঘাত বা হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশেষে চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদনই তাঁর মৃত্যুর সরকারি কারণ নিশ্চিত করল।

১৯৯১ সালের ১৪ জুন তুরস্কের সিভাস শহরে জন্ম নেওয়া এজে ইরতেম ইয়াশার ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। ২০১৪ সালে ‘কাচাক গেলিনলার’ সিরিয়ালের মাধ্যমে অভিনয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী পরবর্তীতে ‘ও হায়াত বেনিম’ এবং ‘শেরেফ মেসেলেসি’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় সিরিয়ালে অভিনয় করেন। বিশেষ করে ‘ওয়ান লাভ’ সিরিয়ালে ইশিল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান এবং তুরস্কের উদীয়মান তারকাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।