ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদের তীরবর্তী প্লাবনভূমি অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাটের দায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আজিজুর রহমানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকেলে জেলা শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে তিন হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস এবং দুটি খননযন্ত্র অকেজো করে দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিনের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযুক্ত আজিজুর রহমান জেলা এনসিপির সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমান কমিটির সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট সংলগ্ন সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের কাশীনগর গ্রামে তিতাস নদের পূর্বপাড়ে আজিজুর রহমানের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা রয়েছে। ওই ভাটার দক্ষিণ পাশে নদের তীরঘেঁষা প্রায় ১০-১৫ কানি জমি রয়েছে, যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বর্ষায় প্লাবিত হওয়া এই নিচু জমিটি শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করত। গত এক মাস ধরে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে স্তূপ করা হয় এবং প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নৌকাযোগে ড্রেজারের বালু এনে জায়গাটি ভরাট করা হচ্ছিল।
এই অবৈধ ভরাট কার্যক্রম নিয়ে গত ৭ জুলাই মুক্তকণ্ঠতে ‘নদীর তীরের জমি ভরাট করছেন এনসিপির নেতা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে এনসিপি নেতা আজিজুর রহমানের এই অবৈধ কার্যক্রমের কথা জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন বুধবার বিকেলে ঘাটুরা মৌজায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে খননযন্ত্র ও পাইপের মাধ্যমে নদ-তীরবর্তী জমি ভরাট হতে দেখে আদালত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযানে আনুমানিক তিন হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস এবং দুটি খননযন্ত্র অকেজো করা হয়।
অভিযান চলাকালে সুহিলপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ও সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের বেঞ্চ সহকারী আল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "তিতাস নদ–তীরবর্তী ভূমি অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগে আজিজুর রহমানকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজিজুর রহমান অভিযানের সময় উপস্থিত না থাকায় তাঁর প্রতিনিধি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন।"






