কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাভাবিক রঙের মাংস বিক্রির অভিযোগে দোকানি সালফিন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবণী আক্তার এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দোকানের রেফ্রিজারেটরেও দুর্গন্ধযুক্ত মাংস পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দোকানি সালফিন মিয়া স্বীকার করেন যে, তিনি বিভিন্ন উপজেলা থেকে কম দামে অসুস্থ গরু কিনে সেখানে জবাই করতেন এবং সেই মাংস কটিয়াদীর দোকানে এনে বিক্রি করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করে অটোরিকশায় করে মাংস কটিয়াদীতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।

অভিযানে উপস্থিত উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক দিদারুল আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী যেখানে মাংস বিক্রি হবে, জবাইও সেখানেই হতে হবে। কিন্তু সালফিন মিয়া গরু জবাই করেছেন বাজিতপুরে, আর মাংস বিক্রি করছিলেন কটিয়াদীতে। তিনি গরুর চামড়াও দেখাতে পারেননি। মাংসের রংও স্বাভাবিক ছিল না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি নিজেই অভিযোগ স্বীকার করেছেন। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় সালফিন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং মাংস জব্দ করা হয়েছে।"

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম নয়, এর আগে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একই অপরাধে সালফিন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় তিনি ক্ষমা চেয়ে পুনরায় এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় সালফিন মিয়া প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমার সঙ্গে মাংস বিক্রি করে কেউ পারে না তো, তাই শত্রু লাইগা গেছে।” তবে চার মাস আগে একই অপরাধে জরিমানার কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে স্থানীয় কিছু ভোক্তার অভিযোগ, কটিয়াদীর অনেক মাংস বিক্রেতা এই ধরনের জরিমানা দেওয়াকে ব্যবসার একটি ঝুঁকি হিসেবেই গণ্য করেন। অসুস্থ বা পঁচাবাসী গরুর মাংস বিক্রি করে যে মুনাফা হয়, তার তুলনায় বছরে একবার বা দুবার জরিমানা দেওয়া তাঁদের কাছে বড় কোনো বিষয় নয়। ফলে ধরা পড়লে তাঁরা জরিমানা দিয়ে ক্ষমা চাইলেও পুনরায় একই কাজে লিপ্ত হন।