সামান্থা রুথ প্রভুর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত অ্যাকশন ড্রামা ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’ এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। নন্দিনী রেড্ডির পরিচালনা এবং রাজ নিদিমোরুর সৃজনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে ইতিহাস গড়েছে। এটিই প্রথম নারীপ্রধান তেলেগু সিনেমা যা ১০০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে।

আগামী ১৭ জুলাই থেকে জিওহটস্টার-এ স্ট্রিমিং শুরু হবে সিনেমাটি। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ২৮ দিন পর ওটিটিতে আসার এই সিদ্ধান্তটি বর্তমান তেলেগু সিনেমার প্রচলিত চার সপ্তাহের নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে। জিওহটস্টার তাদের ঘোষণায় লিখেছে, ‘১৭ জুলাই... দেখো কীভাবে একে একে সবাইকে জবাব দেওয়া হয়। “মা ইন্টি বাঙ্গারাম” ১৭ জুলাই থেকে জিওহটস্টারে।’

প্ল্যাটফর্মটির তথ্যমতে, সিনেমাটি তেলেগু, তামিল, কন্নড় এবং মালয়ালম ভাষায় দেখা যাবে। তবে হিন্দি ডাব সংস্করণ থাকছে না। এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক দর্শক হিন্দি সংস্করণের দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষের আপাতত তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

সিনেমাটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে স্বর্ণা (সামান্থা রুথ প্রভু) নামের এক নারীকে কেন্দ্র করে। বিয়ের দুই বছর পর সে প্রথমবারের মতো স্বামীর পরিবারের সঙ্গে থাকতে আসে, যেখানে তার স্বামী অনিরুদ্ধর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিগন্ত মানচালে। নতুন পরিবারে মানিয়ে নিতে গিয়ে স্বর্ণাকে বারবার পুত্রবধূ অনসূয়ার (শ্রীমুখী) সঙ্গে তুলনার মুখে পড়তে হয়। এরই মাঝে তার জীবনে ফিরে আসে করুণা (গুলশন দেবাইয়া) নামের এক ব্যক্তি, যে স্বর্ণার অতীতের গোপন সহিংসতার সাক্ষী। নিজের বর্তমান জীবন ও পরিবারের কাছে সত্য গোপন রাখতে স্বর্ণা মরিয়া হয়ে ওঠে, কিন্তু পরিস্থিতি তাকে আবারও সহিংসতার পথে হাঁটতে বাধ্য করে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গাড়ি ধাওয়ার দৃশ্যটি এই সিনেমার অন্যতম আলোচিত অংশ।

ছবির অভিনয়শিল্পী হিসেবে সামান্থা রুথ প্রভু ছাড়াও রয়েছেন গুলশন দেবাইয়া, দিগন্ত মানচালে, শ্রীমুখী, গৌতমী এবং মঞ্জুষা মুক্কাভিল্লি। সংগীত পরিচালনা করেছেন সন্তোষ নারায়ণন।

বিশ্বব্যাপী বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্যের পর এক সাক্ষাৎকারে সামান্থা জানান, মুক্তির আগে এক প্রদর্শক তাঁকে বলেছিলেন, ‘নায়িকাকেন্দ্রিক সিনেমা দেখতে কে আসবে? বড় নায়কের সিনেমায় থাকলে মানুষ আসে, কিন্তু শুধু একজন নায়িকাকে কেন্দ্র করে বানানো ছবি কেউ দেখবে না।’ তবে বক্স অফিসের ফলাফল দিয়ে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন সামান্থা।