রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত বৃক্ষমেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে আমাজনের হলুদ সফেদাসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির বিদেশি ফলের গাছ। উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ রঙের এই ফলটি একসময় জামান ফল নামে পরিচিত ছিল। মূলত আমাজন বা ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে জন্ম নেওয়া এই ফলটি মিষ্টি স্বাদের এবং এতে প্রচুর মিনারেলস রয়েছে।
মঙ্গলবার মেলায় দেখা যায়, হলুদ সফেদার পাশাপাশি ব্ল্যাক সাপোটে, হোয়াইট সাপোটে, বিভিন্ন প্রজাতির রাম্বুটান, চেরি ফল, ককোনাট, নানা জাতের আঙুর, ট্যাং ফল এবং আনারকলির মতো দুর্লভ ফলের গাছ প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে।
প্রজাতি ও মানের ওপর ভিত্তি করে এই গাছগুলোর দাম ভিন্ন ভিন্ন। ট্রপিক্যাল ফ্রুট পার্কের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহমেদ জানান, আকারভেদে প্রতিটি হলুদ সফেদা চারার দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে ফল ধরা অবস্থায় গাছটি কিনতে হলে ২০ হাজার টাকা গুনতে হবে। তাঁর সংগ্রহে মেক্সিকো ও আমেরিকা অঞ্চলের মামি সফেদা গাছ থাকলেও সেটি বর্তমানে শুধু প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। জুয়েল আহমেদ বলেন, "শিগগিরই বিক্রি শুরু করবেন।"
ব্ল্যাক সাপোটে, হোয়াইট সাপোটে ও ককোয়া ফলসহ তাঁর স্টলে ১ হাজার ৪০০ ধরনের ফলের চারা রয়েছে। তিনি আরও জানান, "যেসব গাছ বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযুক্ত, সেগুলোই শুধু বিক্রি করা হচ্ছে। এই গাছগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে লাগানো গেলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।"
মেলায় বারোমাসি আঙুরগাছ প্রদর্শনীতে রেখেছে খান নার্সারি। বিক্রেতাদের মতে, এটি রাশিয়ান বাইকুনুন জাতের আঙুর, যা বছরের পুরো সময় ফল দেয়। নার্সারির পরিচালক সজীব আহেমদ জানান, তাঁর এখানে দুই প্রজাতির রাম্বুটানগাছ রয়েছে। ফলসহ বড় রাম্বুটানগাছের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং ছোট গাছের দাম ৪০ হাজার টাকা। তবে ক্রেতার সাথে দামাদামি করে কিছুটা কমিয়ে বিক্রি করার কথা জানান তিনি। ফল ছাড়া রাম্বুটান চারার দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।
এছাড়া চীন থেকে আমদানি করা ফুজি আপেলগাছ প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে, যার দাম ৪০ হাজার টাকা। তবে আপেলগাছের চারার দাম ১ হাজার টাকা থেকে শুরু। বিক্রেতার দাবি, সাধারণ আপেলগাছ বছরে একবার ফল দিলেও ফুজি আপেলগাছ বছরে দুবার ফল দেয়, তবে এর জন্য বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। সজীব আহেমদ বলেন, “৭০ থেকে ৮০ জাতের ফল গাছ আছে আমাদের কাছে। আর ফুল গাছ আছে ১০০ প্রজাতির বেশি।”
মেলায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, এবার গাছের দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেশি। মিরপুর থেকে আসা নারগিস সুলতানা অ্যাভোকাডো, মালবেরি, রাম্বুটান ও লটকনসহ চারটি গাছ কিনতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করেছেন। দাম বেশি মনে হলেও মানের কথা ভেবে তিনি গাছগুলো কেনেন। তিনি জানান, তাঁর ছাদবাগানে ৬০ ধরনের ফলের গাছ রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মাহাদুল হাসান বিএডিসি-র স্টল থেকে ৩০০ টাকায় একটি আমগাছ কেনেন। তিনি জানান, বেসরকারি নার্সারিতে দাম বেশি হওয়ায় তিনি বিএডিসির স্টল থেকে গাছটি সংগ্রহ করেন।






