কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলশিক্ষককে দা দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ছাত্রীর মা ঘরে ছিটকিনি দিয়ে আটকে রেখে ওই শিক্ষিকার মাথায় ১০ বার কোপ দেন, এতে তাঁর একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষিকার নাম সিঁথি সীমিতা (২৮), তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হামলাকারী নারীকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। গ্রেপ্তারকৃত নারীর নাম প্রিয়া বেগম (২৫), তিনি ওই এলাকার খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী।

শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "হামলার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়া বেগমের এক সন্তানকে গত তিন মাস ধরে বাসায় গিয়ে পড়াতেন সিঁথি সীমিতা। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে তাঁকে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হতো। সম্প্রতি সিঁথি টিউশনির বকেয়া টাকা চাইলে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন। গতকাল সকালে শিক্ষার্থীকে পড়াতে যাওয়ার পর, চলে আসার আগমুহূর্তে প্রিয়া দরজা বন্ধ করে দা দিয়ে সিঁথিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।

দরজা আটকানো থাকায় সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তাঁর সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে এবং সেখানে ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে।

ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সিঁথি সীমিতা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মাথায় প্রথম কোপটি দেওয়ার পর আমি দৌড়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলে দেখি অন্য দিন এক ছিটকিনি লাগানো থাকলেও ঘটনার দিন দুই ছিটকিনি লাগানো। পরে আর বের হতে পারিনি। আমার গলায়, হাতে, কানে মিলিয়ে দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিল। কোপানোর সময় প্রিয়া বলছিলেন, “আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান? স্বর্ণ দে।””

মামলার বাদী শিশু মিয়া মুক্তকণ্ঠকে জানান, এটি স্বর্ণালংকার ছিনতাই ও হত্যার উদ্দেশ্যে করা একটি পরিকল্পিত হামলা। প্রিয়া এর আগেও এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এখন অনেকে তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করে অপরাধ হালকা করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।