এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র মডারেশনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্রে দুটি প্রশ্ন ভুল থাকার পাশাপাশি তা কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পরীক্ষার্থীরা।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ত্রুটি এবং প্রশ্ন কঠিন হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ওই পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন মডারেশনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট চার শিক্ষকই সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ।
সরকার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।"
যাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ১৩ জুলাই সোমবার সকালের পরীক্ষা চলাকালে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে মারাত্মক ত্রুটি বা অসংগতি দেখা দিয়েছে। প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি থাকায় পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের চরম মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও পরিশোধক হিসেবে প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং পেশাগত কর্তব্যে অবহেলার শামিল। এ ধরনের কাজে সিলেট বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
প্রশ্নপত্র পরিশোধনে এমন গুরুতর ত্রুটি বা অসংগতি থাকার কারণে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার জবাব নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।






