শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রবাদপ্রতিম ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’-এর জমি দখল সংক্রান্ত বিরোধে আপিল মঞ্জুর করেছে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে (ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মাছুম বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে জানান, উভয় পক্ষের কৌঁসুলিদের উপস্থিতিতে আদালত আপিলের রায় ঘোষণা করে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শুনানিকালে আপিলকারীর পক্ষে জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) সিরাজুল ইসলাম, সাবেক জিপি হাবিব উল্লাহ, বিশেষ পিপি মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আবদুল হাইসহ তিন শতাধিক আইনজীবী ওকালতনামায় স্বাক্ষর করে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিপক্ষের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন আইনজীবী এ কে মো. শাহাদাত হোসেন ও আবিদ উল্লাহ।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে জিপি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা আনন্দিত। মামলাটি পুনর্বিচারের আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত হলো। পুনর্বিচারে আমরা অবশ্যই প্রমাণ করতে সক্ষম হব যে আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের জমিতে প্রতিপক্ষের স্বত্ব কিংবা অধিকার কাল্পনিক এবং বাস্তবতার ধারেকাছেও নেই।’

জানা গেছে, পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। শহরের হালদারপাড়ার খুরশেদ মিয়া খাঁ এবং আলাউদ্দিন খাঁর বড় মেয়ে সরিজা বেগমের ছেলে মিজানুর রহমান, মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান ও সেলিম মিয়া একটি দানপত্র দলিলের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ১০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিএস খতিয়ান সংশোধনের মামলা দায়ের করেন।

মামলার আরজিতে বাদীপক্ষ দাবি করেছে, সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন দাগের সাড়ে ৪৯ শতক জমির মধ্যে ৮ শতক জায়গা তাদের দখলে রয়েছে। তারা সংগীতাঙ্গনের ভেতরে ঘর তৈরি ও পুকুরে মাছ চাষের মাধ্যমে ওই ৮ শতাংশ জায়গা ভোগদখল করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুগ্ম জেলা জজ কাজী কামরুল ইসলাম ২৫ মে বিনা খরচে ডিক্রি জারি করে বিএস জরিপ সংশোধনের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন, যা সংগীতাঙ্গনকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দেয়।

আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং বিশেষ পিপি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যথার্থ আদেশ হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে একতরফা রায় স্থগিত হলো। আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশে মামলাটি নতুন করে নিম্ন আদালতে শুনানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনের জমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে দাবি প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

উল্লেখ্য, আজ সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংগীতাঙ্গনে আটটি কক্ষ, একটি মিলনায়তন এবং একটি জাদুঘর রয়েছে। তবে সেখানে কোনো পুকুর বা কোনো পরিবারের বসবাসের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং দাবি করা ৮ শতাংশ জায়গার কোনো হদিস মেলেনি। এ বিষয়ে আলাউদ্দিন খাঁর কোনো স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।