নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে দুই দিনের ব্যবধানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণের শিকার হওয়া এক শিক্ষার্থীকে আন্তনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, আর অন্যজন চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পড়ে রক্ষা পান।

ঘটনা দুটি ঘটে গত রোববার বিকেলে মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সোমবার দুপুরে পৌর শহরের দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার টিফিনের সময় দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রী বিদ্যালয়ের ফটকের বাইরে গেলে কয়েকজন যুবক তাকে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি রুমাল তুলে দিতে বলে। রুমালটি স্পর্শ করতেই মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং তাকে দ্রুত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুল ছুটির পর শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে তাকে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে এক যুবক তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মুখ চেপে ধরে। বিরামপুর বাজার এলাকায় পৌঁছে শিশুটি অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন।

পরপর দুটি ঘটনায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তাঁরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত অপহরণ চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। শামীমা আক্তার নামের একজন অভিভাবক বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের নিয়ে এমনিতেই আতঙ্কে থাকি। অপহরণের ঘটনায় আমাদের আতঙ্ক বেড়ে গেছে। শহরের সব কটি সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, ফুটেজ দেখে তদন্ত করে দ্রুত অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে, মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা আসমা বলেন, শিক্ষার্থীদের একা বিদ্যালয়ের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান জানান, ঘটনা দুটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।