রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলাকালে একটি যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত আটটার পর একদল শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করলে রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গতকাল সোমবার টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আজ সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্ন অতিরিক্ত কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া অভিন্ন প্রশ্নপত্র আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন বলে দাবি করেছেন তারা।

দিনের শুরুতে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা করেন। পরবর্তীতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে অবস্থান নেন। সেখান থেকে পুলিশ সরিয়ে দিলে তারা বকশীবাজারে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে যান। বিকেলে পুনরায় সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করার পর সন্ধ্যায় তারা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

রাত আটটার পর শিক্ষার্থীরা আবারও সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় ফার্মগেট থেকে সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার রাস্তার ব্যারিকেড সরিয়ে দেন কয়েকজন সাধারণ মানুষ। বাসগুলো চলতে শুরু করলে শিক্ষার্থীরা সেগুলো আটকে দেন এবং একপর্যায়ে কয়েকজন বাসের সামনের ও পাশের কাঁচ ভেঙে ফেলেন।

তবে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের দাবি, যারা বাসে ভাঙচুর করেছে তারা শিক্ষার্থী নয়, বরং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের মধ্য থেকে একজনকে আটক করে আমরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি।’

বাসে হামলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আনোয়ার মিয়া নামের একজন যাত্রী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করুক। যৌক্তিক আন্দোলনে আমরা সব সময় পাশে থাকব। কিন্তু যাত্রীবাহী বাসে এভাবে হামলা চালানো মোটেও উচিত হয়নি।’