চট্টগ্রাম নগরে এক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও কোটি টাকার চাঁদা দাবির ঘটনায় দুই দিন পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই নিরাপত্তা সংকটে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা এখন চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গত সোমবার দুপুরে নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামের প্রতিষ্ঠানটিতে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এসময় তারা প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নেয়। এর দুই দিন আগে বিদেশের একটি নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুনের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ফোন করা ওই ব্যক্তি নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। মাসে দেবেন ১০ লাখ। এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।’ ওই ব্যক্তি নিজেকে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী বলে দাবি করলেও সাজ্জাদ আলী মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠের কাছে এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।
হামলা ও গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং তা না হলে চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট-সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন। সংবাদ সম্মেলনের পর একই দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “গত শনিবার ডিডিএনের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। পরদিন সোমবার দুপুরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত চাঁদাবাজি, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং পুরো আইএসপি খাতের জন্য একটি বড় নিরাপত্তাসংকট।”
আইএসপিএবি তাদের চার দফা দাবিতে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সব আইএসপি প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। নেতারা জানান, জনস্বার্থে এখন পর্যন্ত সেবা চালু রাখা হলেও সময়মতো অপরাধীদের গ্রেপ্তার না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি হিসেবে ইন্টারনেট-সেবা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।
সোমবার রাতেই চকবাজার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের আসামি করে মামলা করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল কার্যালয়ে ঢুকে কম্পিউটার, মুঠোফোন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। একজনকে কুড়াল দিয়ে সরঞ্জামে আঘাত করতে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখাতে দেখা যায়।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দুই দিনে একজনও আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আসতে ভয় পাচ্ছেন। ঘটনার পরও পুলিশ পাহারা ছিল না। আজ বিকেলে পুলিশ এসেছে।’
এ বিষয়ে নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী মুক্তকণ্ঠকে জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।






